Monday, April 6, 2026

ভেবেছি পুজিব পদ


ওমা, ভেবেছি পুজিব পদ মানসকুসুমদলে 

হেরি এ কুসুম কীটদষ্ট, আমারই করম ফলে! 

আমি মুরতি আনিয়ে ঘরে, বসালেম আসনে পরে, 

শুধু হৃদয়ে মা ঠাঁই হল না, এ ভেবে পরাণ জ্বলে! 

আলোকে আরতি করি, প্রদীপে তুলিয়া ধরি, 

তবু নয়নে আঁধার হেরি, বুক ভাসে আঁখিজলে। 

ওমা, বিশাখের এ বাসনা, অন্তে নিদয়া হয়ো না, 

যেন দুর্গা বলে যেতে পারি ও রাঙা চরণতলে!  

Saturday, March 28, 2026

আদর্শের ইমারত

 


আদর্শের সমূহ বুলি
উচ্চ ইমারত হয়ে স্থবির হয়
আর তার প্রতিধ্বনি দেয়ালে দেয়ালে ফেরে
তারা জাগে না জনহৃদয়ে কোনদিন!
মর্মরে প্রাণের আরাধনায় রত কতক জাদুকরে-
যেন তারা জীবন্ত প্রাণীকূল দেখেনি কতকাল,
অন্তরের আঁধারে অন্তঃলীন-
ওরা নাকি একদিন হবে আলোর মশাল
অমাবস্যার বুকে নক্ষত্রও হতে পারে!



Thursday, July 16, 2020

কে গো ভীমা ভামিনী রণে


কালীকীর্তন মালকোঁষ- তেওরা _________________ কে গো ভীমা ভামিনী রণে! দনুজদলনী শোণিত-শোভিত-পদে ত্রাসিত ত্রিলোক গজগমনে, প্রলয় গরজনে! ভীমা ভামিনী রণে… দিতিসুত-মুণ্ডচয় দুলাইয়ে গলে, মেঘবরণী হুহুংকারে আসব পানে ঢলে বধিছে অরিকুলে রুধির পিয়াসে- ক্ষোভিত কৃপাণে, রক্ত আননে! ভীমা ভামিনী রণে… নীরজ-নয়নে নবারুণ আভা ধরি, ভয়ংকরী রণপ্রমত্তা অট্টহাস ক্ষণে ক্ষণে! ত্রয়তাপ নিকন্দনী, দুরিতবারিনী- সংবর রূপ ভীষণা, হেরি স্নেহ-সুহাসিনি, বিশাখজননী, ক্রোড়-প্রসারিনী- অভয় দাও, শমন-শাসনে! ভীমা ভামিনী রণে… কথা ও সুর- বিশাখদত্ত ২২/৬/২০২০

Saturday, July 11, 2020

রসরাজ হে, তোমার পিছে পিছেই যাব



রসরাজ হে!

তোমার পিছে পিছেই যাব,
যতই তুমি যেমনি রাগো,
আমি তোমার চরণ করব শরণ
আর কারো ঠ্যাং ধরব না গো!

শিষ্য তোমার বজ্রযানী,
ধরবে তোমার ঠ্যাং দু'খানি
লোকে বলে 'বজ্রআঁটুনি-
ফস্কা গেড়ো', আমি তেমন গেড়ো
আঁটব না গো!

নিন্দা করে অণ্ডবাকে,
ডাণ্ডা মারি সে বেটাকে,
তোমার রসভাণ্ড উপচে পরে-
সে রসের ধারায় ডুবব ওগো!

- পদকর্তা বজ্রযানী বৈষ্ণব

Friday, July 10, 2020

পরদেশী পাখি উড়ে যায়



২০০৬ সাল। সদ্য যৌবনে পা ফেলেছি- সে সময়ের গান। তারুণ্যে সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রতি যে আমার অনুরাগ তাতে রবীন্দ্রছায়া সর্বগ্রাসী রূপ ধরেছিল। রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্যে এতটাই ভালা লাগা এসেছিল- ভাবলাম আমিও না হয় একটা লেখার চেষ্টা করি! যেই ভাবা- আমিও একটা পৌরাণিকী গল্পের আশ্রয় করলাম, লিখেও ফেললাম। চারিত্রিক ঔদাসীন্যতার বদান্যতায় সেই পান্ডুলিপিও আমার কাছে নেই, তবে তার একটি গান আজও রয়ে গেছে, আমার মনেই। সেটি দিচ্ছি। এই গানটি লেখার অনুপ্রেরণা ছিল কবিগুরুর ‘আমি যে গান গাই জানি নে সে কার উদ্দেশ্যে’ গানটি। কিন্তু সুর ও বাণীর বিস্তারে স্বতন্ত্রতা রক্ষার একটা কৌলীন্য বজায়ের চেষ্টা আমার গোড়া থেকেই ছিল বিধায়- এটি রবীন্দ্রছায়া থেকে সরে এলো, তা স্পষ্ট। আচ্ছা গানটির পটভূমি বলি- নব যৌবনের উন্মেষে আকুলা এক রাজকুমারীর একাকীত্ব-ভার (আলবাত এখানে রাবিন্দ্রীকতা!), যিনি রাজপ্রাসাদের ছাদে দাঁড়িয়ে পরিযায়ী পাখিদের দেখছেন- যিনি গাইছেন, ‘পরদেশী পাখি উড়ে যায়, ফিরে নাহি চায় কারো পানে, জানি নে সে কোথা যায়, বাঁধা পড়ে না সে গানে। আমি তবু গান গাই, পরদেশী... যারে পাখি গানখানি নিয়ে যা নিয়ে যারে তার কানে, যার লাগি এ বসন্ত যায় বিফলে না জানি সে আছে কোন খানে।। মোর একাকী জীবন যায় প্রমোদ মেলায়, মিছে হাসিখেলায় অকারণে, শূণ্য হৃদয় পানে কেহ নাহি চায়, চাহে শুধু নীরব মুখ পানে। দিন কাটে মোর বেদনায়, আমি তবু গান গাই, পরদেশী... আমার অপরিণত বয়সের চেষ্টা এসব। স্মৃতি থাকে বের করে গাইতে গিয়ে গানে মাধুর্য্য ফোটাতে ব্যর্থ হলাম মনে হচ্ছে। তাই ভ্রান্তি কিছু মনে হলে- মনে নেবেন্নিকো মহাশয়/মহাশয়ারা! (কেবলমাত্র অতীতের কিছু স্মৃতিরক্ষার্থে এসব এখানে তুলে আনা।)

তোমাকেই দেখি ঝাপসা চোখে ভোর রাতে



২০/১১/২০১৭ তারিখে ‘সুরমা নদীর স্রোত’ নামে একটা মাত্র চারলাইনের অনুকাব্য লিখেছিলাম। কিছু পরিবর্তন ঘটিয়ে ৬ এপ্রিল, ২০২০ তে এটাকে গানে রূপ দিলাম। রাগঃ সরস্বতী (দুই গান্ধার'ই সামান্য মিশিয়েছি) তালঃ দাদরা তোমাকেই দেখি ঝাপসা চোখে ভোর রাতে, কুজ্ঝটিকার অন্তরালে হাত রেখেছ কার হাতে? ঝঞ্ঝা বাতাস ঝটকা লাগে খিড়কি নড়ে একলা ঘর, তোমায় দেখি দাঁড়িয়ে আছো সুরমা নদীর স্রোতের পর, আমার সাথে আড়ি তোমার, কইছো কথা কার সাথে?

আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী




আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী, পাষাণ পরাণে তিলেক দয়া হবে এ দীনে জননী? নেমেছি এ বেলা ভবের পাথারে নাহি গো তরণী পারে যাব আশা করেছি গো মনে, শিবের ঘরণী। করাল জলধি পথ নাহি জানি, হেরি মা অশনি।। আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী... এ ভবতরঙ্গ হয় না রে ভঙ্গ, তারা একি রঙ্গ! গরজে পবন, ত্রাসিত নয়ন, থরথর অঙ্গ! কোথা ভয়হরা দীনের তারিণী, দুঃখবারিণী! তনয় বিশাখে জলধির পাঁকে ডোবে মাগো, ডাকে- কোথা ত্রিনয়নী, পতিতপাবনী, শঙ্কাহরণী।। আর কবে নগেন্দ্রনন্দিনী... রচনা ও সুরঃ ৪/৬/২০২০ বিশাখদত্ত। গতরাতে একটা ধ্রুপদ লেখার তাড়না এলো মনে। রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে একটা কাব্য লিখে ফেললাম ধ্রুপদের জন্য। ভেবেছি চৌতালে বাঁধব। কিছুতেই সেই ভাবটা এলো না। তারপর এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এই রূপে আনতে পেরেছি। রাগ সম্পুর্ণ মালকোঁষের ছায়ায় ৯ মাত্রার শিবতাল! এ-তালে কখনো কিচ্ছুটি গাইনি! তাতে আবার নিজে গান তৈরির চেষ্টা একটু বেশী দুঃসাহসিকতা হয়ে গেল না? গলা খারাপ থাকা সত্ত্বেও গেয়ে রেখেছি- নইলে সুরটা মন থেকে সরে যাবে।

Thursday, July 9, 2020

সাধে কি ত্যাজেছি তোরে



সাধে কি ত্যাজেছি তোরে সেই কথা তুই ভাল জানিস! পাড়া-পড়শি যে যাই বলুক (আমার) মনের দুখ তুই তো মানিস! সঙ সাজিয়ে খুব পাঠালি, সঙ দেখে দিস দু’হাত তালি! (আমার) পাওনা নেবার হিসেব দিলে কত টাল-বাহানার ফিকির টানিস! লোকের কথা বলব কি আর, যার যা ভাল সে বুঝুক তার। আপন পরের ফারাক খুঁজে সবই দেখি বিশ আর ঊনিশ! ভেবেছি তুই জগত-ছাড়া তাই অহর্নিশি ডেকে তারা; কপাল জুড়ে দুখের ফাঁড়া নিত্য নতুন কতই আনিস! রচনা ও সুরঃ বিশাখদত্ত ২৫/৬/২০২০।

আর ভবজায়া শান্তি দিলিনে ভবে



আর ভবজায়া শান্তি দিলিনে ভবে—
শুধাব সকলি, পুষে যা রেখেছি মনে,
আজ নয় কাল, দেখা তো হবেই হবে!

শয়নে চিন্তা হানে শরসম, দিবসে মরি গো যুঝিয়া,
কোথা পাব তারা ত্বরা উপশম, আকুল হয়েছি খুঁজিয়া,
এত যাতনা মা দিবি জানিনিতো,
দিলি যাহা— মনে রবে!
শুধাব সকলি, পুষে যা রেখেছি মনে,
আজ নয় কাল, দেখা তো হবেই হবে!

ঘোর ঢেউ ভাঙে, তরণী দিলিনে,
আমি জেনেছি কবে গো সাঁতার?
জলে ফেলেছিস, ভাল কি এ খেলা-
এ যে অকুল করাল পাথার!

আমি ডুবে মরি সংসারস্রোতে, তোর কত মজা এলোকেশী
এই বেশ ভাল, আমি কেঁদে যাই, তোর গালভরা থাক হাসি
লোকে তো দিয়েছে দুঃখহরা নাম,
আমি — ভুল জেনে গেছি তবে।
শুধাব সকলি, পুষে যা রেখেছি মনে,
আজ নয় কাল, দেখা তো হবেই হবে!

১৮ এপ্রিল, ২০২০।